এস এম তাজাম্মুল, মণিরামপুরঃ গত ৩১শে মার্চ(সোমবার) সারা দেশে উদযাপিত হয়ে গেলো ইসলাম ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদ উল ফিতর।দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর বছর ঘুরে এ খুশির দিনটিকে নানা ভাবে পালন করে মুসলমানরা।

সারা দেশের ন্যায় দেশের দ্বীতিয় বৃহৎ উপজেলা মণিরামপুরে যথাযত ভাবে পালন হয়েছে এ বড় উৎসবটি।সরেজমিনে দেখা গেছে দীর্ঘ দুই যুগ পর মণিরামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী “বিজয়রামপুর মান্দারতলা” ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায় করতে হাজার হাজার মুসল্লীর সমাগম ঘটে।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দীর্ঘ দুই যুগ এমন লোক সমাগম ঘটেছে!


ইতিহাস ঘাটলে ও স্থানীয় বয়স্ক ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়,তাদের বাপ-দাদার আমল থেকে বিজয়রামপুর মান্দারতলা ঈদগাহ উপজেলার ভিতর সর্ববৃহৎ ময়দান ও লোক সমাগমেও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে।কিন্তু বিগত কয়েকটি ঈদের নামাজের জামায়তে কোন এক অজানা কারনে সেটাতে ভাটা পড়েছিলো।এবার রোজার ঈদে আবারাও পুরাতন সেই কোলাহলপূর্ণ ঈদগাহ ময়দান পরিলক্ষিত হয়েছে। উল্লেখ্য, পৌরসভার বিজয়রামপু, জুড়ানপুর, তাহেরপুর, মোহনপুর, কামালপুর, উপজেলার কাশিপুর, হেলান্চী, সাগরা, চাদপুর, মাঝিয়ালি, হালসা, পাড়দিয়া, চন্ডিপুর সহ কয়েকটি গ্রামের মুসল্লিরা মান্দারতলা

ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদ উল ফিতর ও পবিত্র ঈদ উল আযহার নামাজ আদায় করে। সোমবার সকাল ৯ টায় অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদ উল ফিতর এর নামাজ আদায় শেষে নজরে পড়ে লোকের সমাগমের একটা কোলাহলপূর্ণ দৃশ্য।কয়েক জনের ভাষ্যমতে,কয়েকটি গ্রাম মিলিয়ে এবারের ঈদের নামাজে ঈদগাহে বিশ(২০,০০০) হাজারের বেশি মানুষ মান্দারতলা ঈদগাহে হয়েছে।যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক গুনে বেশি।

তবে দুঃখজনক,ধারাবাহিক ভাবে ঈদের নামাজ পরিচালনাকারী কাশিপুর পীরবাড়ির হুজুর মাওলানা মোঃ হাফিজুর রহমান বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারনে উপস্থিত দায়িত্বভার স্বীয় মেয়ে জামাইকে দিয়ে কাতারেই নামাজ আদায় করেন।প্রচার আছে মান্দারতলা ঈদগাহ ময়দানে নামাজের জামায়তে অনেক বছর ধরে একাই ঈমামতী করেছেন পীর সাহেব ক্ষ্যাত মাওলানা মোঃ হাফিজুর রহমান।


দৃশ্যমান ছিলো ঈদগাহের মাঠেই বৃহৎ আকার নিয়ে দাড়িয়ে আছে একটি শিশু গাছ।গাছটি কেটে ফেলার কয়েকটি বৃথা চেষ্টা করেছিলেন কয়েকবার কিন্তু অজানা কারনের জন্য কাটতেও পারেনি কোন দিন কেউ।এটা আরেকটি ঐতিহাসিক বিষয়।ঈদগাহ থেকে একটু দূরেই জাঁকজমকপূর্ণ ঈদের বাজারে শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ এসেছে আসপাশের কয়েক গ্রাম থেকে।


ঈদগাহ কমিটির সাথে কথা হলে প্রত্যেকে জানান হতাশার কথা,মণিরামপুরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দান হলেও শুধু ঈদ এলেই খোজ হয় মান্দারতলার।নির্মাণাধীন ঈদগাহ দেখিয়ে বলেন ফান্ডিং ব্যাবস্থা দূর্বলতার কারনে কয়েকবছর আগেও সোন্দার্য বর্ধনের কাজ শুরু হলেও থমকে আছে চলমান কার্যক্রম।সরকারি বরাদ্দের একটা বড় অংশ পাওয়ার কথা থাকলেও বিগত বছরের কয়েকজন লোকের কারনে নামমাত্র বরাদ্দ পেয়ে কাজ শুরু হলেও তা শেষ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।যদি আর্থিক কোন সরকারি বরাদ্দ আবারো মেলে তাহলে ঐতিহ্যের এই ঈদগাহের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ ভালোভাবে শেষ করা সহজ হবে।